পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুত মোবাইল ইন্টারনেট খুলে দেয়া হবে: পলক
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট ব্লকড’ ঘোষণার পর বুধবার রাত থেকেই মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা। ব্যবাহারকারীদের অভিযোগ অপারেটরগুলো থেকে এ নিয়ে তারা কোনো আগাম বার্তা পাননি। তবে ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে গেলেই নেটওয়ার্ক টুজি দেখায়। ফলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোসহ অন্যান্য অ্যাপে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ওয়েবসাইটগুলোতেও প্রবেশ করতে পারছেন না ব্যবহারকারীরা। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সচল আছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, পূর্বের কোনো ঘোষণা ছিলো না। পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতার স্বার্থে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। সোশ্যাল মিডিয়াকে এখন গুজব ও অপপ্রচারের অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। তাই সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। দ্রুত পরিবেশটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। যখন আইন শৃঙ্খলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আমরা আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারবো; খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংযোগ দেওয়া হবে।
ফেসবুক আজ যোগাযোগ করেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেই জায়গায় যে ধরণের ভূমিকা নেওয়া উচিত বা প্রয়োজন সেটি নেয়ার চেষ্টা করছি। সেটি আমাদের জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা নিয়ে আমি সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি। এজন্য সাময়িক কিছুটা ক্ষতি বা কষ্ট হতে পারে। তবে ফিজিক্যাল অ্যান্ড ডিজিটাল দুটোই আমাদের সমান ভাবে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। আজকে ফেসবুক এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারপরও আমরা খুব বেশি আশ্বস্ত বা আশাবাদী হতে পারছি না। কারণ তারা দুর্বল যুক্তি দেখাচ্ছে। সেগুলো কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের প্রাইভেসি পলিসি সেটিং আমাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয় না। তারা দেশ ও ঘটনা ভিত্তিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। এটা হতে পারে না। বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে যে দেশের যে আইন তা মানতে হবে। আমরা তাদের নির্দেশনা মানতে রাজি নই।
পলক আরো বলেন, ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, গুগল আমাকে পার্সোনালি ও অফিসিয়ালি মেইল দিয়েছে। এদের কারণে কোনো ক্ষতি হয় তবে আমরা ছাড় দেবো না।
সূত্রমতে, বুধবার থেকে সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট তথা ফোরজি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় আংশিকভাবে বিভিন্ন স্পটে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। গ্রামীণফোনের শতভাগ এবং রবি ও বাংলালিংকের ৫০ শতাংশ ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ প্রয়োজনীয় এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে অপারেটরদেরও জানানো হচ্ছে না।
এর আগে মোবাইল অপারেটর ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার পাশাপাশি গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন উপায়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফোরজি বন্ধ থাকায় ফেসবুকে ছবি বা ভিডিও আপলোড কিংবা লাইভ করা যায় না।







